২০২৫ সাল

জ্বালানি তেলের দৈনিক চাহিদা ১২ কোটি ব্যারেল ছাড়ানোর পূর্বাভাস

বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে আগামী দুই দশকেরও বেশি সময়জুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা শক্তিশালী ধারা বজায় রাখতে পারে।

বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে আগামী দুই দশকেরও বেশি সময়জুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা শক্তিশালী ধারা বজায় রাখতে পারে। সম্প্রতি কানাডার অ্যালবার্টার কালগারিতে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল এনার্জি শোতে দেয়া এক বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন ওপেক মহাসচিব হাইথাম আল গাইস। তিনি বলেন, ‘২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির প্রয়োজন বাড়তে পারে ২৪ শতাংশ। সে সময় পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দৈনিক চাহিদা ১২ কোটি ব্যারেল ছাড়িয়ে যাবে।’ খবর রয়টার্স।

আল গাইসের দেয়া এ পূর্বাভাস ২০২৪ সালে ওপেকের দেয়া ‘ওয়ার্ল্ড অয়েল আউটলুক’-এর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওপেক মহাসচিব তার বক্তব্যে কানাডার জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক উত্তোলন বৃদ্ধির প্রশংসা করেছেন। তিনি জানান, দেশটি ২০২৪ সালে রেকর্ড জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে। এর পেছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে ট্রান্স মাউন্টেন পাইপলাইন সম্প্রসারণ প্রকল্পের সফল সমাপ্তি। এছাড়া কানাডার প্রধান জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী প্রদেশ অ্যালবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ ২০৫০ সালের মধ্যে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন দ্বিগুণ করার আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছে।

আল গাইস বলেন, ‘‌ওপেক দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হলে ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হবে। যদি প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পুঁজি বিনিয়োগ না হয়, তাহলে জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। এতে উত্তোলক ও ব্যবহারকারী উভয় দেশেই বাজার অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ওপেকের মতে, আগামী ২৫ বছরে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে ১৭ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন।’

এদিকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বেশ কয়েকদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে কমছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম আগের দিনের তুলনায় ব্যারেলে ৭৩ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৬৯ ডলার ৪ সেন্টে। অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমেছে ৬৬ সেন্ট বা ১ শতাংশ। ব্যারেলপ্রতি মূল্য নেমেছে ৬৭ ডলার ৪৯ সেন্টে।

যদিও এর আগের দিন ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছিল। বাজারসংশ্লিষ্টরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য থেকে কর্মী সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত ও ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আসন্ন আলোচনার প্রেক্ষাপট মূল্যায়ন করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বছর শেষে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারে নেমে আসবে। পরবর্তী বছর এর গড় দাম হবে ব্যারেলে ৫৯ ডলার।

আরও